মাদ্রাসাই পড়াই কি দোষ?

বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ। এখানে বাবা মায়েরা চাই ছেলে আমার মাদ্রাসাই পড়বে। হাফেজ হবে আলেম হবে মোফাসসের হবে। অনেক বড় বক্তা হবে । এই আশা গুলোই থাকে বাবা মায়ের । তবে এই আশা গুলো অনেক দরিদ্র পরিবারের মা বাবার বেশি হয়ে থাকে ।
মাদ্রাসায় মুলত বেতন কম এই বলে অনেক দরিদ্র পরিবারের মা বাবা সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠান।
মাদ্রাসার সংখ্যা অনেক । প্রতি বছর হুজুর হয়ে বাহির হচ্ছেন অনেক। তবে বর্তমানে কুরআন পড়া হুজুর অনেক আছে কিন্তু ইসলাম মেনে চলা হুজুরের সংখ্যা কমেছে ।
বর্তমানে যেমন এম এ অথবা বি এ পাশ করে শিক্ষিত মূর্খ তৈরি হচ্ছে । মাদ্রাসায় তেমন ভাবেই মানুষ হচ্ছে হুজুর। এখনকার হুজুর মানুষ দেখলে সালাম দেন না । এইটা সবচেয়ে বড় কষ্টের।
কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে রাসুল (সা.) প্রথমে সালাম প্রদান করতেন। অতপর তিনি কথা বলতেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আগে সালাম পরে কথা। ’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৪২)
হুজুর গন এখন মানুষকে মানুষ মনেই করেন না । মাদ্রাসায় ভাল আচরণ শিখান না । সাম্প্রতি অনলাইনে একটি ভিডিও প্রকাশ পায় সেখানে একজন হুজুর তার ছাত্রকে নির্মম ভাবে মেরেছেন । এইটা থেকে কি শিক্ষা নিব । পড়া না পারার জন্য মারবে সেটা মেনে নেওয়া যায় । কিন্তু মায়ের সাথে দেখা করার জন্য এক মাদ্রাসা ছাত্রকে পিটানো হয় ।
বাংলাদেশের অনেক মাদ্রাসা গড়ে উঠেছে । এই মাদ্রাসা গুলোতে মাসিক বেতন নেওয়া হয় কম ।  সেখানে খাওয়ার বিষয়টা ও থাকার বিষয়টা দেখে অনেক মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ । এই মাদ্রাসার মধ্যে ঢুকেছে রাজনীতি। ধর্মে নামে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শুরু করছেন ব্যবসা ।
আমাদের এলাকায় মাদ্রাসার ছাত্রদের দিয়ে ইসলামী ওয়াজ মাহফিল এর আগে টাকা সংগ্রহ করানো হয় । রাস্তা ঘাটে মানুষের কাছে থেকে টাকা তুলার জন্য দাঁড় করিয়ে দেয় ।
তবে শুনেছি যারা কম টাকা দিতে পারে তাদেরকে নাকি এই রকম কাজে পাঠানো হয় । বাচ্চারা থাকে রাস্তায় আর যারা বড় হুজুর তারা জান দোকান থেকে টাকা তুলতে ।  মূলত হাটের দিন করে এই রকম কর্মকান্ড করে থাকে। ইসলামী জালসা হবার ৭-১০ দিন আগে থেকে এই রকম কালেকশন চলে ।
যেহেতু মুসলিম প্রধান দেশ সেখানে প্রশাসন বাধা দিতে গেলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে ।
এই রাস্তায় নামানো শিখানো হচ্ছে বাচ্চাদেরকে ।এইটা এক রকম ভিক্ষা। আমি ধর্ম কর্ম সম্পর্কে তেমন জানি না । তবে যতটুকু জানি তার মধ্যে ভিক্ষাবৃত্তি ইসলামে জায়েজ নেই। 
আমার মনে হয় যদি খাবার দেওয়ার টাকা না থাকে কিংবা মাদ্রাসার কোন আয়ের উৎস না থাকে তাহলে মাদ্রাসা তৈরির দরকার নেই ।মাদ্রাসা চালানোর জন্য বাচ্চাদের রাস্তায় নামানো কোন ধরনের মানবিকতা । হুজুর গন জানা সত্ত্বেও রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে একটা পাপের কাজ করছেন।
আমাদের দেশের আলেম গন এই গুলোকে সমর্থন দেন। কেননা আলেম গন কোন ওয়াজ মাহাফিলে গেলে টাকা পান। এই জন্য মাওলানা গন এই রকম সাহায্য চাওয়াকে বড় মনে করেন।
এক হুজুরকে বলেছিলাম কেন বাচ্চাদের দিয়ে টাকা তুলছেন ? তিনি আমাকে বললেন ” যে আমার চিন্তায় সমস্যা আছে ।” আমি না হয় নিম্ম শ্রেনীর লোক । বুঝি না আপনারা বুঝলেই ভাল । 
আর এই বাচ্চারা আপনারদের মাদ্রাসাই পড়ে বড় দোষের কাজ করছে।

Leave a Comment